পুরোনো Android ফোন স্লো হয়ে গেছে? Old Android phone smooth ও fast করার জন্য জানুন 10টি easy ও effective speed up tips. আপনার পুরোনো ফোনটি কি বাড়ির এক কোণে পরে আছে? যেটি ব্যবহারের অযোগ্য কারণ সেটি অনেক বেশি হ্যাং করে। তাহলে এই নতুন টিপস গুলো আপনার পুরোনো ফোনটিকে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলবে, চলুন তাহলে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
Contents
পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন স্মুথ চালানোর ১০টি কার্যকরী টিপস
যদি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন ২০১৫ সালে কেনা হয়ে থাকে এবং এখন এটি হ্যাং বা স্লো হয়ে চলছে, তবে হতাশ হবেন না। সঠিক পদক্ষেপ অনুসরণ করলে আপনি এখনও এই ফোনটি মসৃণভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। এই গাইডে আমি এমন কিছু প্রায়োগিক টিপস শেয়ার করবো যা বিশেষ করে ২০১৪-২০১৬ সালের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য কার্যকর।
1. ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস নিয়ন্ত্রণ করুন
অনেক সময় ফোনটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ফোনে র্যাম তৈরি হয়, যা ফোনকে অনেক বেশি দুর্বল করে দেয়, তাই এটি ঠিক করতে ডেভেলপার মুড অন করুন, এটি যে ভাবে করবেন টা হলো – ডেভেলপার অপশনস সক্রিয় করতে ‘বিল্ড নম্বর’ এ অন্তত ৭ বার বা তার বেশি ট্যাপ করুন ডেভেলপার মুড চালু হয়ে যাবে, তার পর প্রসেস লিমিট সেট করুন 2 থেকে 3.
সেটিংস >ডেভেলপার অপশনস>ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস লিমিট সেট করুন এটি র্যাম ব্যবহার কমাবে।
2. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করুন

পুরোনো ফোনে স্টোরেজ স্পেস কম থাকে। যেসব অ্যাপ আপনি ব্যবহার করেন না সেগুলো আনইনস্টল করুন। বিশেষ করে ফেসবুক, মেসেঞ্জারের মতো ভারী অ্যাপগুলো লাইট ভার্সন (Facebook Lite, Messenger Lite) ব্যবহার করুন।
3. অ্যানিমেশন স্কেল কমিয়ে দিন
ডেভেলপার অপশনসে গিয়ে এই কাজ গুলো করে দিন
উইন্ডো অ্যানিমেশন স্কেল: 0.5x
ট্রানজিশন অ্যানিমেশন স্কেল: 0.5x
অ্যানিমেটর ডিউরেশন স্কেল: 0.5x
সেট করুন। এতে UI দ্রুত কাজ করবে।
4. ফোনের ক্যাশে মেমোরি ক্লিয়ার নিয়মিত রাখুন

প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার গ্যালারি ক্যাশে, ব্রাউজার ক্যাশে, অ্যাপ ক্যাশে ক্লিয়ার করুন।
এটি যেখানে পাবেন সেটি হল সেটিংস > স্টোরেজ > ক্যাশে ডেটা
5. লাইটওয়েট লঞ্চার ব্যবহার করুন
ডিফল্ট লঞ্চার অনেক র্যাম ব্যবহার করে, তাই কম র্যাম ব্যবহার করে এমন লঞ্চার ব্যবহার করুন যেমন নভা লঞ্চার, মাইক্রোসফট লঞ্চার মতো হালকা লঞ্চার, এগুলো ব্যাবহার করলে ফোন আগের চেয়ে ফাস্ট চলবে।
6. SD কার্ডকে ইন্টারনাল স্টোরেজ হিসেবে ফরম্যাট করুন
পুরানো বেশিরভাগ ফোনেই (Marshmallow 6.0+) এডাপ্টেবল স্টোরেজ সাপোর্ট থাকে, তাহলে SD কার্ডকে ইন্টারনাল স্টোরেজ হিসেবে ফরম্যাট করুন। এতে অ্যাপ ইনস্টলের স্পেস বাড়বে।
7. ফোনের সিস্টেম আপডেট বন্ধ রাখুন
পুরোনো ফোনে নতুন আপডেটে সমস্যা হতে পারে। সেটিংস > সিস্টেম আপডেট > অটো আপডেট চেক বন্ধ রাখুন।
8. কাস্টম রম ব্যবহার করুন (Advance Tips)
আপনি যদি টেকনিক্যালি দক্ষ হন, তবে লিনিয়াজ ওএস বা পিক্সেল এক্সপেরিয়েন্সের মতো হালকা কাস্টম রম ইন্সটল করতে পারেন। এতে পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
9. ব্যাটারি সেভিং মোড চালু রাখুন
ব্যাটারি সেভিং মোড চালু রাখলে এটি শুধু ব্যাটারি বাঁচায় না, পারফরম্যান্সও বাড়ায়। এটি ব্যাকগ্রাউন্ড একটিভিটি কমিয়ে দেয়। যাতে ব্যাটারি লাইফ বেশিক্ষণ পাওয়া যায় ও ফোন টিও স্মুথ পারফরমেন্স দেয়।
10. অ্যাপ ক্লিয়ার করুন
প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ এর ব্যাকগ্রাউন্ড একটিভিটি কমিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরী, কারণ আপনি যখন কোন অ্যাপ অন করে আবার অফ করেন তখন সেই অ্যাপটি ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতেই থাকে, তাই অ্যাপ এ কাজ হয়ে যাওয়ার পর অ্যাপ ক্লিয়ার করে দিন,
অতিরিক্ত ও কার্যকরী টিপস:
অ্যাপ ডিজেবল:

অপ্রয়োজনীয় সিস্টেম অ্যাপ ডিজেবল (Disable) করুন ফোনের সাথে এমন কিছু প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ আসে যা আনইনস্টল করা যায় না এবং আমরা ব্যবহারও করি না (Bloatware Aap ) এগুলোকে ফোর্স স্টপ বা ডিসেবল করে রাখুন।
ফ্যাক্টরি রিসেট
উপরের সবকিছু করে উন্নতি না হলে ব্যাকআপ নিয়ে ফ্যাক্টরি রিসেট দিন। এটি সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। মনে রাখবেন ফোনটি রিসেট করার আগে ফোনের নম্বর ও অডিও ভিডিও ও ছবি দরকারী ফাইল গুলো অন্য কোন ডিভাইসে সরিয়ে রাখুন, কারণ ফোন রিসেট করার পর আর এগুলো ফেরত পাওয়া সম্ভব নয় সহজে।
আরও জেনে রাখুন কোন অ্যাপ রাখবেন, কোনটি বাদ দেবেন
রাখুন: Google, YouTube, Files by Google
বাদ দিন: ডিফল্ট ব্লোটওয়্যার, ভারী গেমস, একাধিক ব্রাউজার,
সতর্কতা:
পুরোনো ফোনে সিকিউরিটি আপডেট না আসায় ব্যাংকিং অ্যাপ বা সেনসিটিভ কাজের জন্য এই ফোন ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এতে ফোনের ফাইল গুলো নিরাপদ অবস্থায় থাকে না।
এই টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনি আপনার ৮-৯ বছরের পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনটিও আরও ১-২ বছর স্মুথলি ব্যবহার করতে পারবেন। মনে রাখবেন, নতুন ফোনের চেয়ে পুরোনো ফোনকে অপটিমাইজ করা একধরনের শিল্প!
দ্রষ্টব্য: এই টিপসগুলো বিশেষভাবে ২০১৪-২০১৬ সালের অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য উপযোগী, যা সাধারণত 1-2GB র্যাম এবং 8-16GB স্টোরেজ সহ শিপ হয়েছিল।
