Valobashar Golpo Bangla font: Best Love Story ভালবাসার গল্প

মানুষের জীবনে সংলাপ বারবার ঘুরেফিরে আসে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার সুর যায় পাল্টে। কথা যায় বদলে। এমনি এক দম্পতির কথাবার্তা আমরা জানবো যখন পুরুষের বয়স পঁচিশ মেয়েটির বয়স কুড়ি।

valobashar golpo bangla font very nice love story

Best Bengali Valobashar Golpo Bangla font

এই প্লিজ বলো লক্ষ্মীটি বল নাগো
উমহুম সে কথা বলা যায় না
বলা যায় আমাকে বলাযায় বলো?
নগো সে ভীষণ গোপন
যতই ভীষণ হোক যতই গোপন হোক আমাকে নিশ্চই বলা যায় বলোনা গো!
আচ্ছা বলছি কাউকে বলতে পারবেনা কিন্তু
না না কাউকে বলবো না
কাউকে বলবেনা তো! ঠিক ?
না বলবো না!
সত্যি বলছো ?
তিন সত্যি বলছি কাউকে বলব না সত্যি সত্যি সত্যি
কথা দিচ্ছ ?
হুম কথা দিচ্ছি প্রমিস
গা ছুয়ে বলো
এই গা ছুয়ে বলছি……
এই জাও অসভ্য কোথাকার, অমনি করে গা ছুঁতে তোমাকে কে বলেছে?
বারে তুমি তো বললে!
আমি কি তাই বলেছি
তুমি বলনি! গা মানে কি নোখ চুল যা নাপিতে কাটে?
জাও তোমাকে নিয়ে আমি আর পারিনা বড্ড অসভ্য যা মুখে আসে তাই বলো।
মোটেই তা বলিনা না, যা মুখে আসে সেটা চেপে গিয়ে অন্য যত বাজে কথা বলি। যা মুখে আসছে সেটা বলবো ? বলি!
না মশাই না সে আর বলে কাজ নেই। এবার শোনো
কথা টা হচ্ছে সোনা
সোনা নয়, বলছি শোন
শোনো বলে কোনো কথা নেই, কথাটা হচ্ছে সোনা, বলতো দেখি, সোনা
আচ্ছা বাবা আচ্ছা সোনা সোনা হোলোত
আবার বলো
সোনা
আবার
সোনা সোনা সোনা
কি সোনা কি বলছ সোনা সোনা সোনা আমার সোনামনিটা
আর একবার গা ছুয়ে প্রমিশ করছি যতবার বলবে ততবার ভালোবাসবো….
আহ্ ছারো যাই গিয়ে তোমার চা টা করে নিয়ে আসি। কেবল দুষ্ট বুদ্ধি তোমার কেবল জ্বালাতন।
চা থাকুক এই যেওনা প্লিজ শোনো
জলিয়না তো তোমার কি আর কোনো কাজ কর্ম নেই?
শোনো শোনো যেওনা একটা কথা ছিল যে আবার খুব জরুরি কথা।

  • সেই দম্পতি যখন পুরষের বয়স ৩৫ এবং মেয়েটির বয়স ৩০

বলেছি তো বলবনা
প্লিজ
আহ্ কেনো মিছিমিছি বিরক্ত করছো
লক্ষ্মীটি বলো প্লিজ
না বলবনা অফিসের কথা তোমাকে বলা সেফ নয়।
আরে বলোনা এই তোমার গা ছুয়ে প্রতিজ্ঞা করছি কাউকে বলব না প্রমিজ।
উফঃ এসব গা ফা ছুয়ে প্রতিজ্ঞা তোটিজ্ঞা ছারত ওসব। আমার একদম এসব ভাল্লাগেনা। যতসব গ্রাম্যতা গা ছুয়ে আবার কি! বিশ্রী।
আচ্ছা আর বলবো না কিন্তু সোনা কথাটা বলছনা কেনো?
ওহঃ অমন সোনা সোনা করোনাতো কথায় কথায় লোকজন শুনতে পাবে।
তবে কি বলবো?
কেনো আমার কি কোনো পৃতৃদত্ত নাম নেই!
প্লিজ অত রাগারাগি করোনা। তোমার কি হয়েছে বলোতো?
রাগারাগি কোথায় করলাম একটাও অপ্রিয় কথা বলবার জো নেই। অমনি ধুও তুলবে রাগারাগি করছো! থুর ছাই……..
কেনো শুধু শুধু আমাকে দূর ছাই করছো বলোতো?
আমি জানি তুমি আজকাল আমাকে একদম সইতে পারনা।
এই অমনি শুরু হয়েগেলো নাকে কান্না। দেখো কথাবার্তা গুলো এবার পরিবর্তন করে ফেলতে পারলে হয়না। বয়সতো যথেষ্ঠ হলো।
কথা আবার কি ভাবে বলবো!
নেকামি টা বাদ দিলেই হয়। যেমন আমার কথাবার্তা।
অনেক তুমি নেকা বললে আমি নেকা।
ওহঃ প্লিজ জালিয়না তো। এখন থেকে জাও তোমার কি কোনো কাজ কর্মোনেই? জাও গিয়ে নিজের কাজ করো।

  • এখন দম্পতির বয়স একটু বেরেছে মহিলার বয়স চল্লিশ এবং পুরুষের বয়স পইতাল্লিস।

এই শোনো শুনছো!
বলো শুনছি
একটা কথা ছিলো
বলে জাও শুনছি
ওরকম করে হবেনা একটু অঘোরে চলো
এখন উঠতে পারবো না
একটু উঠতে হবে যে
এখন ওঠা হবে না
কখন ওঠা হবে তাহলে
কাজটা শেষ হলে অপেক্ষা করো
তোমার কাজ যদি রাত্রিতেও যদি শেষ না হয়?
তবে রাত্তিরেও শোনা হবে না।
কথাটা তবে বলবনা তো বলবোনা?
বলবেনা কেন পরে বলেদিয়
পরে বললে আর কথাটা কাজে আসবেনা
ঠিক এই মুহুর্তেই বলা চায় তোমার আমার হিসাব কষার মধ্যেই?
এক্ষুনি না বললে আর বলে লাভ নেই, তার জন্য ওঘরে একবার যাওয়া দরকার।
দেখো তুমি বারবার কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করোনা একটু অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা কর।
সেটা তুমিও তো তুমিও একটু চেষ্টা করতে পারো
আমি সেটা সর্বদায় করছি
বাহঃ তুমি সর্বদায় অ্যাডজাস্ট করে চলো
হ্যাঁ সর্বদায় অলওয়েস
এটা সত্যি কথা বললে তুমি?
তার মানে আমি মিথ্যাবাদী
আহ্ তা বলবো কেনো তা নয় বলছি……
কথা ঘুরিও না তুমি এইতো বললে
মোটেই বলিনি
হ্যাঁ তুমি বলেছো
আমি কি তাই বলেছি? কি আশ্চর্য! বেশ করেছি বলেছি, আবার বলবো।
তোমার কি আর কোনো কাজ কর্মো নেই, জাও গিয়ে নিজের কাজ করো।

  • এখন সেই দম্পতির পৌড় বয়স স্বামীর পঞ্চান্ন স্ত্রীর পঞ্চাশ।

এই শোনো শুনছো? কিহলো একটু শোনো শুনছো এই যে শুনছো আরে উত্তর দিচ্ছনা কেনো?
কি ? কি হোয়েছে কি ? দেখছনা কাজ করছি।
ওহঃ ডিস্টার্ব করছি নাকি? শুনছো?
আবার কি হলো?
একটা দরকার ছিল
রুমাল ডান দিকের দেয়ালে
আহ্ রুমাল নয়
আন্ডার ওয়্যার বা দিকের দেয়ালে
ওহঃ আন্ডার ওয়্যার দিয়ে কি হবে
তবে কি চায়?
অপেক্ষা করো আমার পুজো আগে শেষ হোক
সে পুজো শেষ হতে তো দু ঘন্টা লাগবে। শুনছো শুনছো খুব জরুরি প্লিজ একটু উঠে এসো।
পুজোটা শেষ হোক আসছি।
পুজোটা অত জরুরি নয় আমি যেটা বলতে চাই সেটা খুব জরুরি আসো।
পুজো আমার কাছে জরুরি কাজ
আমার কাছে জরুরি নয়, তোমাকে শুনতেই হবে। উঠে এসো এখনি।
পূজার আসন ছেড়ে ওঠা সম্ভব নয়।
ওফঃ কি জেদ
তাহলে শুনবেনা কথাটা
আমি কি তাই বলেছি। আসন ছেড়ে এখন ওঠা যাবেনা। এখন আর জলিওনা এখান থেকে যাও। তোমার কি আর কোনো কাজকর্ম নেই।

দম্পতি এখন বার্ধক্যে পৌঁছেছেন। কর্তার বয়স পৈষট্টি আর গিন্নির ষাট।

ওগো শুনছো?
বলো শুনছি…
একটা কথা ছিল
বলে জাও শুনছি
আহ্ ওরম করে হয়না একটু এঘরে এসো
এখন কি করে যায় হতে জোড়া যে
হাত কখন খালি হবে?
এই হলো বলে আসছি
আর হয়েছে তখন থেকেই শুনছি আসছি আসছি, আসবে কখন।
ওহঃ বুরু হয়ে কিযে লক্ষ্মীছাড়া স্বভাব হয়েছে বোলছিতো আসছি একটু অপেক্ষা করা যাচ্ছেনা।
বলছিলে কিন্তু আসছিলেন তো।
কি বলবে বলো
এসেছো?
হ্যাঁ এইতো
বসো এখানে একটু বসো
বসলাম
হাত টা দাও
হাত! হতে লঙ্কা বাটা
তাহলে ঐ হাতটা দাও
ও হাতেও লঙ্কা
তুমি কি ইচ্ছে করে লঙ্কা বাটা মেখে এলে?
ইচ্ছে করে কেউকি হতে লঙ্কা বাটা মাখে?
কি জানি তুমি হয়তো তাও পারো
যত বিদঘুটে কথা তোমার কেনো ডেকেছিল তাই বলো, তাড়াতাড়ি বলো হাত জ্বালা করছে।
কি বললে হাড় জ্বালা করছে, আমি ডাকলে তোমার হাড় জ্বালা করে?
আহ্ হাড় জ্বালা কে বললে। জ্বালাতন বলি কানটাও কি গেছে? চোখটা তো অনেক দিন গেছে। বলছি হাত হাত জ্বলছে, লঙ্কার বুঝেছ!
ও হার নয় হাত লঙ্কা বাটায় হাত জ্বালা করছে! ও তাই বলো আমি ভেবেছি বুঝি……
আর ভেবে কাজ নেই
বলো কেনো ডেকেছিলে
কই দেখি হাত টা দেখি কোথায় তোমার জ্বালা করছে। কি জ্বালা বুড়ো বয়সে একি বেহায়াপনা শুরু করেছ? ন্যাকামো করোনা
হ্যাগো আমরা কোন বছরে কাশ্মীরে গিয়েছিলাম?
বিয়ের পরের বছরে ২৯ সালে।
অতদিন আগে?
এই তোমার জরুরি কথা!
না ঠিক এটা নয় আমি ভাবছিলাম
আর অত ভেবে কাজ নেই আমি যায় গিয়ে তোমার ঘোলের সরবতটা করে আনি।
সরবত থাকুক বসো। দেখো কেমন মেঘ করেছে। কেমন পাহাড় পাহাড় মনে হচ্ছেনা!
নেই কাজ তো খৈই ভাজ। অফিস কাছারি সব ভুলে গিয়ে এখন শুধু আলতু ফালতু ভাবনা। কোনো তো কাজকর্ম নেই। আমি চললাম।
ওকি চলে যাচ্ছ যেওনা বসো। শুনে জাও প্লিজ শোনো……. কথা ছিলো খুব জরুরি কথা……

Rate this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: